প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নিরূপণ করো।

History
প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নিরূপণ করো।

ScanSolve AI Answer

এখানে প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া হলো:

Marks - 10

1) প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নিরূপণ করো।

প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম উভয়ই খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে প্রচলিত হয়েছিল এবং উভয়ই বৈদিক ধর্মের কিছু রীতিনীতির বিরোধিতা করেছিল। তবে তাদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য ছিল:

  • প্রতিষ্ঠাতা:
    • বৌদ্ধধর্ম: গৌতম বুদ্ধ (সিদ্ধার্থ)।
    • জৈনধর্ম: মহাবীরকে (বর্ধমান) জৈনধর্মের ২৪তম এবং শেষ তীর্থংকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যিনি এই ধর্মকে সুসংগঠিত রূপ দেন। প্রথম তীর্থংকর ছিলেন ঋষভনাথ।
  • আত্মা ও ঈশ্বর:
    • বৌদ্ধধর্ম: বুদ্ধ আত্মার অস্তিত্ব সম্পর্কে নীরব ছিলেন (অনাত্মবাদ) এবং ঈশ্বরের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেননি। নির্বাণই ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য।
    • জৈনধর্ম: জৈনরা আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাসী (জীব) এবং মনে করে প্রতিটি জীবন্ত বস্তুর আত্মা আছে। তারা ঈশ্বরের ধারণা প্রত্যাখ্যান করে, তবে তীর্থংকরদের সর্বোচ্চ সত্তা হিসেবে পূজা করে।
  • অহিংসা (অহিংসা):
    • বৌদ্ধধর্ম: অহিংসা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি, তবে জৈনধর্মের মতো চরম নয়। বৌদ্ধরা আত্মরক্ষার জন্য বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সীমিত সহিংসতার অনুমতি দিতে পারে।
    • জৈনধর্ম: অহিংসা জৈনধর্মের সর্বোচ্চ নীতি। এটি এতটাই কঠোর যে জৈন সন্ন্যাসীরা পোকামাকড়কে আঘাত করা এড়াতে মুখ ঢেকে রাখেন এবং সাবধানে হাঁটেন।
  • মোক্ষ/নির্বাণ:
    • বৌদ্ধধর্ম: নির্বাণ হলো দুঃখের অবসান এবং পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি। এটি অষ্টাঙ্গিক মার্গ (আটটি পথ) অনুসরণ করে অর্জন করা যায়।
    • জৈনধর্ম: মোক্ষ হলো কর্মফল থেকে আত্মার সম্পূর্ণ মুক্তি এবং অনন্ত সুখের অবস্থা। এটি ত্রিরত্ন (সঠিক বিশ্বাস, সঠিক জ্ঞান, সঠিক আচরণ) এবং কঠোর তপস্যার মাধ্যমে অর্জন করা যায়।
  • তপস্যা ও কঠোরতা:
    • বৌদ্ধধর্ম: বুদ্ধ মধ্যপন্থার (মাজঝিমা পটিপদা) উপর জোর দিয়েছিলেন, যা চরম ভোগ বা চরম তপস্যা উভয়ই পরিহার করে।
    • জৈনধর্ম: জৈনধর্ম কঠোর তপস্যা এবং আত্ম-নির্যাতনের উপর অত্যন্ত জোর দেয়, যা আত্মাকে শুদ্ধ করার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করা হয়।
  • সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি:
    • বৌদ্ধধর্ম: বর্ণপ্রথার বিরোধিতা করেছিল এবং সকল বর্ণের মানুষকে সংঘে স্বাগত জানিয়েছিল।
    • জৈনধর্ম: বর্ণপ্রথাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করলেও, এটি কর্মের উপর বেশি জোর দিয়েছিল এবং সামাজিক সমতার প্রচার করেছিল।

2) প্রাগৈতিহাসিক উপাদানের ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশে শিকারজীবী ও খাদ্য সংগ্রহ থেকে খাদ্য উৎপাদকের ভূমিকায় শেষ (নব্যপ্রস্তরযুগ) বর্ণনা করো।

ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাগৈতিহাসিক যুগে শিকারজীবী ও খাদ্য সংগ্রহকারী জীবনধারা থেকে খাদ্য উৎপাদক জীবনধারায় রূপান্তর ছিল একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন, যা নব্যপ্রস্তরযুগীয় বিপ্লব নামে পরিচিত। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান এই পরিবর্তনের প্রমাণ দেয়:

  • জীবনযাত্রার পরিবর্তন:

    • আদিম মানুষ ছিল যাযাবর, ছোট ছোট দলে বাস করত এবং শিকার, মাছ ধরা ও বন্য ফলমূল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত। তাদের জীবন ছিল প্রকৃতির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
    • নব্যপ্রস্তরযুগে মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় মেহেরগড় (পাকিস্তান), বুর্জাহোম (কাশ্মীর) এবং চিরান্দ (বিহার) এর মতো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলিতে, যেখানে মাটির বাড়ি বা গর্তের মধ্যে বসবাসের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
  • কৃষি ও পশুপালন:

    • এই যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল কৃষিকাজ শুরু হওয়া। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে গম, বার্লি, ধান এবং ডাল জাতীয় শস্যের পোড়া বীজ পাওয়া গেছে, যা কৃষির প্রমাণ। মেহেরগড়ে খ্রিস্টপূর্ব ৭০০০ অব্দেরও আগে গম ও বার্লি চাষের প্রমাণ মিলেছে।
    • মানুষ পশুপালন শুরু করে, যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া এবং শূকর পোষা শুরু হয়। এর ফলে খাদ্যের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি হয় এবং শিকারের উপর নির্ভরতা কমে।
  • সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উন্নতি:

    • নব্যপ্রস্তরযুগের সরঞ্জামগুলি ছিল মসৃণ ও পালিশ করা পাথরের তৈরি, যা শিকারজীবী যুগের অমসৃণ পাথরের সরঞ্জাম থেকে উন্নত ছিল। কুঠার, বাটালি, কাস্তে এবং শস্য পেষার জন্য শীল-নোড়ার মতো সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
    • মৃৎশিল্পের বিকাশ ঘটে, যা খাদ্য সংরক্ষণ ও রান্নার জন্য অপরিহার্য ছিল। বিভিন্ন ধরনের হাতে তৈরি ও চাকার সাহায্যে তৈরি মৃৎপাত্রের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
  • সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব:

    • স্থায়ী বসতি এবং খাদ্য উৎপাদন জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
    • খাদ্য উদ্বৃত্তের ফলে বিশেষীকরণ শুরু হয়, যেখানে কিছু মানুষ কৃষিকাজ ছাড়াও কারুশিল্প বা অন্যান্য পেশায় নিযুক্ত হয়।
    • গ্রামভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে সামাজিক স্তরবিন্যাস তৈরি হয়।

এই পরিবর্তনগুলি ভারতীয় উপমহাদেশে মানব সভ্যতার বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যা পরবর্তীকালে নগর সভ্যতা এবং রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।

Was this helpful?

Still stuck on this one?

Ask a follow-up, and the answer starts from this question.

Got a different question?Ask your own question